মাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি নিয়ে কি বললেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু! জেনে নিন বিশদে

নিজস্ব প্রতিবেদন: দেশের সমগ্র অংশেই করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছে। চারদিকে তাকালেই দেখা যাচ্ছে মৃত্যুর মিছিল, অক্সিজেন এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর অভাবে অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন অনেক মানুষ। আবার অনেকেই হয়তো নিজেদের পরিজনকে হারিয়ে ফেলেছেন। এমতাবস্থায় দেশের বেশিরভাগ জায়গাতেই বিভিন্ন শ্রেণীর পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বাংলায় মাধ্যমিক পরীক্ষার দিন এগিয়ে আসছে।নির্ধারিত সূচি মেনে মাধ্যমিক পরীক্ষা হলে পরীক্ষার জন্য বাকি রয়েছে আর মাত্র ২০ দিন। কিন্তু রাজ্যের ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতির মাঝে পরীক্ষা হবে না হবে না সেই নিয়ে ধাঁধায় আছে সমস্ত পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। এখনো পর্যন্ত এই বিষয় নিয়ে কোনো রকম সিদ্ধান্ত জানতে পারেননি তারা।

সম্প্রতি কিছুদিন আগেই রাজ্যে তৃতীয় বার ক্ষমতায় এসেছে তৃণমুল কংগ্রেস। এই নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শিক্ষা মন্ত্রী হয়েছেন ব্রাত্য বসু। তৃণমূল কংগ্রেস যখন প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছিল সেবারও ব্রাত্য বসুকেই শিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এই ব্যক্তিকে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দেখে অনেকেই খুশি হয়েছেন। কিন্তু মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রসঙ্গে গতকাল নবনির্বাচিত শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন, “এখনও অব্দি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে”। উল্লেখ্য জানিয়ে রাখি,ইতিমধ্যেই সিবিএসসি ও আইসিএসসি দশম শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষা বাতিল হয়ে গেছে।অন্যান্য রাজ্যের ক্ষেত্রেও মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা বেশিরভাগ বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত বাংলায় কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

এই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকদের একাংশ। কারণ ক্রমাগত এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হবে। অভিভাবকদের মধ্যে অনেকে জানিয়েছেন,“এই করোনা পরিস্থিতির মাঝে পরীক্ষা নিলে পরীক্ষার্থীদের সংক্রমণ থেকে কতটা সুরক্ষিত করা যাবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এছাড়া রাজ্যে লকডাউন জারি না হলেও কড়া বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। লোকাল ট্রেন পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। বাস, মেট্রো এবং অন্যান্য গণপরিবহনে ৫০ শতাংশ যাত্রী যেতে পারছে। এই পরিস্থিতিতে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো দুষ্কর হয়ে উঠতে পারে। তাই মধ্যশিক্ষা পর্ষদ দ্রুত পরীক্ষার সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত নিক”। যদিও অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীরাই পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে রয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে অনেক জায়গাতেই নিজেদের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তারা। কিন্তু দেশের এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া কতটা স্বাস্থ্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে!

Back to top button