জেনে নিনি বিবাহের পূর্বে পাত্রপাত্রীর কুণ্ডলী মেলানোর প্রয়োজনীয়তা কতটা জরুরি?

নিজস্ব প্রতিবেদন: বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে বিয়ের আগে পাত্র ও পাত্রীর কোষ্ঠী বিচার করে নেওয়া অবশ্যই জরুরি। পাত্র-পাত্রীর কোষ্ঠী মিললে তবেই তাঁরা সুখী বিবাহিত জীবন গড়ে তুলতে পারবেন বলে মনে করা হয়। কিন্তু কী ভাবে মেলানো হয় জন্মছক?জন্মছক বা জন্মকোষ্ঠীতে আটটি বিভাগ থাকে। এই আটটি বিভাগে থাকে ৩৬টি গুণ। বিয়ের আগে পাত্র ও পাত্রীর মধ্যে এই ৩৬ গুণ মেলানো হয়। এই পদ্ধতিতে বিয়ে আগে পাত্র পাত্রীর জন্মছক মেলানোকে বলা হয় অষ্ট কুটা মিলন। পাত্র বা পাত্রীর করোও কোষ্ঠিতে যদু দরিদ্র, অকালমৃত্যু, বৈধব্য, অর্থাৎ অকালে পতি বা পত্নীহানি, চরিত্রহীনতা এবং নিঃসন্তান বা সন্তান জীবিত না থাকার যোগ – এই পাঁচটি দোষের কোনো একটি থাকলে সেই পাত্র বা পাত্রীর বিবাহ বর্জন করা উচিত। পাত্র বা পাত্রীর উভয়ের কোষ্ঠিতে যদি দোষগুলি না থাকে তাহলে জ্যোতিষশাস্ত্র মতে বিবাহ অনুমোদনীয়। অতঃপর পাত্র ও পাত্রীর মধ্যে অষ্টকূট বিচারে মিল হলে তবেই বিবাহে দাম্পত্য জীবন মসৃন হয়ে থাকে। অর্থাৎ পাঁচটি মূল দোষ হলো :

দারিদ্রাদোষ – উভয়ের কোষ্ঠিতে ধনযোগ আছে কি না তার বিচার প্রয়োজন।

অকালমৃত্যু দোষ – নিধনভাব বা অযুভাব বিচার করে অকালমৃত্যু যোগ বিচার প্রয়োজন।

পতি-পত্নীহানি দোষ – ভৌম বা মাঙ্গলিক দোষের বিচার করে বৈধব্য দোষ বিচার প্রয়োজন।

চরিত্রহীনতার যোগ – সপ্তমভাব বিচার করে স্বামী বা স্ত্রীর চরিত্রহীনতার যোগ বিচার প্রয়োজন।

অনপত্যতা দোষ – বিবাহিত জীবনে সন্তান স্থানের গুরুত্ব অপরিসীম। উভয়ের পঞ্চমভাবের বিচার প্রয়োজন।

এবার আসা যাক যোটক বিচারের ব্যাপারে –

বিবাহের পূর্বের পাত্র ও পাত্রীর পরস্পরের জন্মরাশ্যদি হতে যে শুভাশুভ বিচার করা হয় তাকে যোটক – বিচার বলা হয়। এটিকে আটটি ভাগে ভাগ করা হয় – (১) বর্ণকূট , (২) বষ্যকূট , (৩) তারাকুট, (৪) যোণিকূট, (৫) গ্রহমৈত্রীকূট, (৬) গণমৈত্রীকূট , (৭) রাশিকুট, (৮) ত্রিনারিকুট। দৈবজ্ঞ মনোহর গ্রন্থে গুন্ সন্মন্ধে লিখিত আছে যে ত্রিনারীকূটে ৮, রাশিকুটে ৭, গনকূটে ৬, গণমৈত্রীকূটে ৫, যোনিকুটে ৪, তারাকুটে ৩, বশ্যকুটে ২, এবং বর্ণকুটে ১; মোট ৩৬ গুন্ সমষ্টির মধ্যে রাজযোটকাদি শুভ রাশিকুট ১৮ থেকে ২০ গুন্ হলে মধ্যম, ৩০ পর্যন্ত শ্রেষ্ঠ এবং ৩০ গুনের উপর হলে বিবাহ মিলন শ্রেষ্ঠতর হয়।

Back to top button