‘অনেক লুঠ করেছেন, এবার কাজ করুন’- মমতাকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

নিজস্ব প্রতিবেদনঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর দাপটে বাংলায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। তার অভিযোগ, আবহাওয়া দফতর এক সপ্তাহ আগে থেকে পূর্বাভাস দিলেও কেন্দ্রীয় সরকার তা মোকাবিলা করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি৷ তারপরই মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘এত প্রচার না করে আসল কাজ করুন। লুঠ করেছেন, মানুষ সব দেখেছে। প্রচার ও সংবাদ মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে বেশিদিন চলতে পারে না।’’

এদিনই নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করে ১৫হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলেছেন৷ সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘‘রাজ্যের এত কম টাকা কেন? সমুদ্র তট কত? অন্ধ্রপ্রদেশের সমুদ্রের তট কত রয়েছে? ন’হাজার কিলোমিটারের বেশি। ওড়িশার তট কত? কত বর্গ কিলোমিটার?’’ বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বিকেলে নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় বিধায়ক কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী।

ওই সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না বিধায়ক তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার অশোক দিণ্ডা সহ সাতজন বিজেপির বিধায়ক।এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ইয়াস আসবে বলে আট- দশদিন আগে থেকেই আবহাওয়া দপ্তর অ্যালার্ট করেছে। যেগুলো দুর্বল স্থান আছে সেগুলো সবাই জানে। কোথায় কি হবে সেগুলো সবাই জানে। কিন্তু তাও কোনও উদ্যোগ নেই। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১৬ টি বিধানসভা কেন্দ্রে সাতটা বিধায়ক আমাদের। জেলায় ৪ লক্ষ ৯১ হাজার বিজেপি ভোট পেয়েছে ও তৃণমূল ৪ লক্ষ ৭৯ হাজার ভোট পেয়েছো। জেলায় প্রায় সাড়ে ১১ হাজার ভোটে তৃণমূল থেকে বিজেপির ভোট বেশি পেয়েছে। বিরোধী দলনেতা ও বিজেপিকে উপেক্ষা করা মানে রাজ্যের ২ কোটি ২৭ লক্ষ ভোটারকে উপেক্ষা করা। এটা যেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মাথায় রাখেন।”

শুভেন্দু আমফানের দুর্নীতি উল্লেখ করে, রাজ্যের তৃণমূলের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বলেন, “তৃণমূলের লোকেরাই মাঠে নেই। তারা সব ছবিতে আছে, আর কোথায় কাকে ঘর ছাড়া করবে এবং জরিমানা করবে এসবে আছে। তারা অপেক্ষা করে আছেন আমফানের মতো মোদিজী টাকা দেবেন আর সেই টাকাগুলো মারবেন। কালকে আমি নিজে একটা অফিসের থেকে কন্ট্রোল করেছি সমস্ত জায়গা। কলকাতা থেকে অনেক কিছু কথা বলা যায়। তার আগের দিন রাত্রে থেকে এবং আজকে সকাল থেকে আমি ছিলাম কিন্তু কোথাও আমি তৃণমূলের কাউলকে দেখতে পাইনি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা বলতে চাই এসডিআরএফে রাজ্যের জন্য যে বরাদ্দকৃত অর্থ ১ হাজার ৮৭কোটি টাকা রয়েছে তার মধ্যে কেন্দ্রের ফান্ড ৮০০ কোটি টাকা।’

শুভেন্দু দাবি করেছেন, ‘‘এসডিআরএফে কেন্দ্রের চারশো চার কোটি টাকা কেন্দ্র সরকার রাজ্যকে দিয়ে দিয়েছে। আপনারা শুনলে অবাক হয়ে যাবেন দঃ কাঁথির মাজিলাপুর পঞ্চায়েত সেখানে ফ্লাড সেন্টার যেটা আর আইডিএফের কেন্দ্রীয় সরকারের টাকায় তৈরি। সেই আরআইডিএফের ফ্লাড সেন্টারে বিজেপি করার অপরাধে ৩০০ মৎস্যজীবী পরিবারকে থাকতে দেওয়া হয়নি। তাদেরকে মন্দিরে রাখতে হয়েছে মুড়ি চিড়া খাইয়ে।আপনারা অবাক হয়ে যাবেন কুকড়াহাটি হাই স্কুলের সামনে ফ্ল্যাট সেন্টারে তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলে দিয়েছে এখানে বিজেপি নো এন্ট্রি। ওড়িশারও ঝড় আছড়ে পড়েছে, কিন্তু সেখানকার মুখ্যমন্ত্রীর ছবি আপনি দেখতে পাবেন না। আর এখানকার মুখ্যমন্ত্রী শুধু মিডিয়ার সামনে প্রচারে আছেন আর বলে যাচ্ছেন সাথে আছি।”

Back to top button