বেলপাতা ছাড়া শিব পুজো হয়না কেন, বেলপাতা ছাড়া কোনও পুজো সম্পূর্ণ হয় না কেন

বংট্রেন্ডি অনলাইন ডেস্ক: সৃষ্টির ত্রিদেবের মধ্যে একজন হলেন শিব। তাঁকে আমরা নীলকন্ঠ, মহাদেব, ভোলানাথ, যোগনাথ, তারকনাথ, পিনাকী, গঙ্গাধর, ললাটাক্ষ, অনঘ, শঙ্কর, চন্দ্রশেখর, কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, মহাকাল, আদিদেব, দেবাদিদেব, কিরত, রুদ্র, নটরাজ, শম্ভু, পশুপতি, চিন্তামণি, গৌরিপতি, সতীপতি, ত্রিপুরারী, তীর্থরাজ, যোগীশ্বর ইত্যাদি বিভিন্ন নামে ডেকে থাকি। যজুর্বেদে তাঁর দুটি পরস্পর বিরোধী সত্তার উল্লেখ আছে। একটি হল ক্রূর, ভয়ংকর রূদ্ররূপ; অপরটি হল দয়ালু ও মঙ্গলময় শিবরূপ। মহাভারতে তিনি বিশালতা, দুর্জেয়তা, ভয়ংকরের প্রতীক।

পুরাণ মতে দেবাদিদেব মহাদেব তাঁর তৃতীয় নেত্র দিয়ে কামদেব মদনকে ভস্ম করেছিলেন। শিবের মস্তকে যে অর্ধচন্দ্র বিরাজ করে তা সম্ভবত সোম ও রূদ্রের একীভবনের বৈশিষ্ট্য। শিব তাঁর সর্বাঙ্গে বিভূতি অর্থাৎ ভস্ম মাখেন। দেবী গঙ্গাকে নিজের জটায় ধারণ করেছেন শিব। এহেন শিবের পূজার্চনা ও মন্ত্রপাঠ করলে আপনার জীবনের সকল কষ্ট মুহূর্তে বিনাশ হয়ে যাবে।

কোনো ভুল ত্রুটি না করে শুদ্ধাচারে, শুদ্ধ মনে, শুদ্ধ পোশাকে ভোলানাথের পুজো করলেই তিনি সন্তুষ্ট। শিবকে একাধারে যোগী ও গৃহী দুই রূপে কল্পনা করা হয়। যোগী রূপে তিনি ধ্যানরত। গৃহী রূপে তিনি দেবী পার্বতীর স্বামী, গনেশ ও কার্তিকের পিতা। শিবের স্ত্রী কে তাঁর শক্তির উৎস বলে মনে করা হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই অর্থকষ্ট, পারিবারিক সমস্যা, মানসিক অশান্তিতে ভুগছেন। তারা শিবের এই মন্ত্রটি জপ করতে পারেন-

ওঁ নমঃ শিবায় শান্তায় কারণত্রয় হে তবে।
নিবেদয়ামি চাত্মানং ত্বং গতি পরমেশ্বর।।

আসুন জেনে নিন শিবলিঙ্গ সম্পর্কিত এই কয়েকটি কথা, যা মেনে চললে দেবাদিদেব মহাদেব তুষ্ট হবেন। নচেৎ রুষ্ট হলেও হতে পারেন-

১। শিবলিঙ্গ কখনোই পূজা স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও সাজিয়ে রাখবেন না। মনে রাখবেন শিবলিঙ্গ ঘরের সৌখিনতা বৃদ্ধির জন্য নয় বরং ভক্তি ভরে পুজো করার জন্য। ২। শিবলিঙ্গে হলুদ ব্যবহার করবেন না। হলুদের ফোঁটা বা টিপও দেবেন না। ৩। শিবলিঙ্গে সিঁদুর দেবেন না। ৪। শিবলিঙ্গ সোনা, রূপো, পিতল অথবা পাথরের তৈরি হতে হবে। চেষ্টা করবেন শিবলিঙ্গের মাথার ওপর কোনো পাত্র রাখার যা থেকে গঙ্গা জল পড়তে থাকবে শিবলিঙ্গের ওপর। ৫। শিবলিঙ্গে তুলসি পাতা দেবেন না। শিবলিঙ্গে বেলাপাতা এবং চন্দন দিয়ে পুজো করতে পারেন।

পুরাণে বেলপাতা সম্পর্কে একটি গল্প আছে। মাতা পার্বতী দেবাদি দেব মহাদেব কে পাওয়ার জন্য পূজার্চনা করতেন। একদিন মহাদেব বেল গাছের নীচে বসে তপস্যা করছিলেন। সেই সময় মাতা পার্বতী পুজো করার জন্য যান। কিন্তু পুজোর সামগ্রী নিতে ভুলে গেছিলেন। তাই বাধ্য হয়ে তিনি বেল গাছ থেকে ঝরে পড়া বেল পাতা দিয়ে মহাদেবের পুজো করেন। এতে মহাদেব খুশি হয়েছিলেন।

গাছ থেকে বেলা পাতা ছেড়ার নিয়ম :-

1। চতুর্থী, অষ্টমী, নবমী, চতুর্দশী এবং অমাবস্যা তিথিতে ও সংক্রান্তিতে বেল পাতা ছেড়া যায় না। 2। সোমবার বেল পাতা ছেড়া উচিৎ নয়। 3। শিবলিঙ্গে দেওয়ার জন্য বেলপাতা নিজে না পেলে অন্য কারোর থেকে বেলপাতা নিয়ে গঙ্গা জল দিয়ে ধুয়ে তারপর অর্পণ করতে হবে। 4। সন্ধ্যাবেলা বেল পাতা ছিড়বেন না।

বেল পাতা অর্পণের নিয়ম :-

1। ভোলানাথ কে বেল পাতা উল্টো করে অর্পণ করবেন। অর্থাৎ মসৃণ দিক শিবলিঙ্গের দিকে রাখবেন। 2। অর্পিত বেল পাতায় বজ্র ও চক্র চিহ্ন যেন না থাকে। 3। ভোলানাথকে 3 থেকে 11 টি বেলপাতা অর্পণ করা উচিৎ। 4। অর্পণ করার জন্য বেল পাতা না পাওয়া গেলে বেল গাছকে প্রণাম করে ভোলানাথকে স্মরণ করা যেতে পারে।

Back to top button