ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে ফুচকাওয়ালা! সমাজের বেড়াজাল ডিঙিয়ে আজ সুপারহিট ভাইবোনের তৈরী ‘ফুচকাwala’

নিজস্ব প্রতিবেদন: ‘মানুষ ইচ্ছা করলে সব পারে’– কথাটির জ্বলন্ত প্রমাণ হল এই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া। পড়াশোনার পাশাপাশিই ‘ফুচকওয়ালা’ হিসাবেও পরিচিত তিনি। তিনি স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে, ইঞ্জিনিয়ার দাদার সাথেই ফুচকা বিক্রি করেন। সম্প্রতিতে দাদা-বোনের এই কাহিনী সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছে। তাঁদের এই জীবন কাহিনী নেটিজেনদের ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

খড়দহের বাসিন্দা দেবজ্যোতি সাহা। ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে একটি সংস্থায় কাজ পান তিনি। বোন এখনও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে। কিন্তু গতবছর লকডাউনের জন্য বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েন। বেতনও কমে যায়। সেই সময় দেবজ্যোতির বেতনও কমে যাওয়ায় খুব বড়ো আর্থিক সঙ্কটে পড়ে তাদের পরিবার। এরপর একদিন বাড়িতে ফুচকা খেতে খেতে তাঁদের মাথায় বুদ্ধি আসে। দাদা ও বোন মিলে সিদ্ধান্ত নেন যে তারা ফুচকার দোকান খুলবে।

বর্তমানে খড়দহে তাঁদের দোকান ‘ফুচকাওয়ালা’ বেশ ভালোই চলছে। জল ফুচকা, দই ফুচকা তো রয়েছেই, তার সঙ্গে আছে চিকেন ফুচকা, চিংড়ি ফুচকা, আইসক্রিম ফুচকার মতো আরও নতুন নতুন স্বাদ ও চমকের ফুচকাও। ফুচকা ছাড়াও স্যান্ডুইচও পাওয়া যায় সেখানে। এই ‘ফুচকাওয়ালা’ বিয়েবাড়ি থেকে শুরু করে যেকোনও ধরনের অনুষ্ঠানের অর্ডার নিয়ে থাকে। তাঁদের দোকানের ফুচকার স্বাদ এবং দোকানের মনোরম পরিবেশ প্রত্যেককেই মুগ্ধ করেছে।

তবে শুরুটা খুব একটা সহজ ছিল না। দেবজ্যোতির বোন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পড়তেই ফুচকার ব্যবসাতে নেমে পড়েছিলেন এবং দেবজ্যোতিও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি দোকানে বসছেন। যার জন্য তাদের পাড়া প্রতিবেশী থেকে শুরু করে আত্মীয় স্বজন সকলের কাছেই নানারকম কথা শুনতে হয়েছিল। তবে সেসব কথা গায়ে মাখেননি তাঁরা বরং আগামী দিনে এক সফল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশিই ‘ফুচকাওয়ালা’’কে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে দাঁড় করানোই দেবজ্যোতি এবং তাঁর বোনের মূল লক্ষ্য। সেই স্বপ্নপূরণের জন্যই এগিয়ে চলেছেন দুই দাদা-বোন।

Back to top button