ভোটার সংখ্যা ৬৭৬, কিন্তু ভোট পড়ল ৭৯৯? নন্দীগ্রামের নথি নিয়ে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদন: একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকে সকলের নজর ছিল নন্দীগ্রাম। দুই হেভিওয়েটের মধ্যেই সামন সমান টক্কর চলছিল। লড়াইটা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর জানা যায়, আবারও বাংলার মসনদে তৃণমূল ফিরলেও, নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত হন।

প্রথমদিকে যদিও বলা হয়েছিল যে, মুখ্যমন্ত্রী ১২০০ ভোটে জিতে গিয়েছেন। তবে পরে সন্ধ্যের দিকে আবার রিটার্নিং অফিসার ঘোষণা করেন, ‘জয় হয়েছে শুভেন্দু অধিরকারির।’ তবে তৃণমূল শিবির নির্বাচনের এই ফল মেনে নেয়নি। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, ‘সমগ্র রাজ্যের থেকে আলাদা ফল হয়েছে নন্দীগ্রামে। এটা কখনই হতে পারে না, আদালতে যাব আমি। খবর আছে, ফল ঘোষণার পর কারচুপি হয়েছে। আর সেটা ঠিকই খুঁজে বের করব’।

নন্দীগ্রামের নির্বাচনের ফল নিয়ে আদালতে মামলা চলছে বহুদিন ধরে। ঠিক এই মূহর্তে এই বিষয় নিয়ে এমন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসল, যা বঙ্গ রাজনীতিতে আবারও তোলপাড় শুরু করে দিল। খবর অনুযায়ী, নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ার এস এন রায় স্কুলের বুথের মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৬৭৬, কিন্তু ‘অ্যাকাউন্ট অব ভোটস রেকর্ডেড’ স্পষ্ট লেখা রয়েছে যে ওই এলাকা থেকে মোট ভোট পড়েছে ৭৯৯। এর থেকে ফের একবার নন্দীগ্রামের ভোটগণনায় গোলমালের অভিযোগক স্পষ্ট হয় গেল। সকলের মনে এখন একটাই প্রশ্ন উঠছে, সবকিছু দেখেও প্রিসাইডিং অফিসার কিভবে ফর্ম ১৭ সি – তে স্বাক্ষর করে দিলেন?

এঘটনা সামনে আসা মাত্রই মুখ্যমন্ত্রীর নন্দীগ্রাম নির্বাচনী এজেন্ট শেখ সুফিয়ান জানান, ‘ওই দিন সার্ভার না থাকার কারণে শেষের ৩ ঘণ্টা গণনা বন্ধ হয়ে যায়। তারপরও ১ ঘন্টা দেরী হয়। তারউপর ভিভিপ্যাট গোনার সময় বিরোধীদলের চাপে সেখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হয়’। এই ব্যাপারে তৃণমূল মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন, ‘একটা বুথেই প্রায় ৮০ টা ভোটের গরমিল? তাহলেই ভাবুন, বাকিগুলোতে কি হয়েছে? প্রথম থেকেই আমরা বলে আসছি কিছু একটা জলঘোলা হয়েছে নন্দীগ্রামে’।

তবে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার তৃণমূলের তরফ থেকে করা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানান, ‘গত পঞ্চায়েত ভোটেও এরকম অনেক জায়গায় হয়েছে। তবে তৃণমূলের করা অভিযোগের সত্যতা বিচার আমরা করতে পারব না। তার জন্য আদালত ও নির্বাচন কমিশন রয়েছে। আগে তৃণমূল বামেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, আর এখন আমরা ১০ বছর ধরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছি’। শেষপর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে মুখ খুলে বললেন, ‘‘এভাবে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। রেয়াপাড়ার এস এন রায় স্কুলের বুথের ভোটার সংখ্যা ৭৯৯ এবং সেখানে ভোট পড়েছে ৬৭৬টি।”

Back to top button