শ্বশুরের জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দিলেন বৌমা!

নিজস্ব প্রতিবেদনবিয়ের পর থেকেই মেয়েদের জীবনযাত্রা অনেকটা পরিবর্তিত হয়ে যায়। ছোট থেকেই মেয়েদেরকে শেখানো হয় স্বামীর ঘরই তার জন্য আসল ঘর। সাধারণত যে ঘরে ছোট থেকে লালন পালন করা হয় কন্যাদের সেই ঘর থেকেই তাকে চিরজীবনের জন্য পর করে দেওয়া হয়। বলতে গেলে প্রাচীনকাল থেকেই এই নিয়ম চলে আসছে। বর্তমানে বেশ কয়েক বছর আগেই বিংশ শতাব্দীতে পদার্পণ করেছে বিশ্ব।কিন্তু তাতেও ভারতবর্ষের মতো বেশ কিছু দেশে মেয়েদের নিয়ে বিশেষ কয়েকটি চিন্তাভাবনায় কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।কথায় রয়েছে শ্বশুরবাড়িতে কখনো মেয়েরা নিজের বাড়ির মত আদর পেতে পারেন না।

এমনকি কখনোই পরের বাড়ি থেকে আসা মেয়েকে নিজের মেয়ে বলে মানতে রাজি হন না শ্বশুর বাড়ির লোকজনেরা। কিন্তু সম্প্রতি এই ঘটনার উপর অনেকটা যোগ্য প্রতিউত্তর দিয়ে একটি ঘটনা নেট মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে চলেছে।এই ভাইরাল ঘটনার মাধ্যমে জানা যাচ্ছে শ্বশুরের প্রাণ বাঁচানোর জন্য নিজের যকৃতের অংশ দান করে দিয়েছেন তার বৌমা। বর্তমান যুগে এই ধরনের সম্পর্ক খুব কম দেখা যায়। তাই স্বাভাবিকভাবেই ওই বৌমা এবং তার শ্বশুরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে গিয়েছেন নেটিজেনরা।

প্রসঙ্গত সুলতান মল্লিক নামে ওই ব্যক্তির দীর্ঘদিন ধরে যকৃতের সমস্যা ছিল। নদীয়ার চাপড়ার এলেমনগর গ্রামের বাসিন্দা এই ব্যক্তি।পেশায় গাড়িচালক এই ব্যক্তির কিডনিতে টিউমার হওয়ার কারণে দ্রুত লিভার প্রতিস্থাপন করার কথা বলা হয়। প্রথমদিকে তার তিন ছেলের পরীক্ষা করা হলে একমাত্র বড় ছেলের সাথেই রক্তের গ্রুপ ম্যাচ করার কারণে প্রতিস্থাপনের কথা বলা হয়। কিন্তু সেই ছেলেকে পরীক্ষা করার পর জানা যায় তার ফ্যাটি লিভার রয়েছে। ফলস্বরূপ সুলতান মল্লিকের যকৃৎ প্রতিস্থাপন সম্ভবপর হয়নি। এমতাবস্থায় হঠাৎ করেই দেবদূতের মতো এগিয়ে আসেন তার বৌমা জাহানারা।

সকলকে অবাক করে দিয়ে শ্বশুরকে যকৃতের অংশ দেওয়ার কথা জানান জাহানারা।এই ঘটনায় তার বাপের বাড়ি থেকে শুরু করে শ্বশুর বাড়ির সমস্ত লোকজনেরা অবাক হয়ে যান। সমস্ত দিকে আশ্বস্ত হওয়ার পর ব্যাঙ্গালুরুর এক হাসপাতালে বৌমার শরীরের যকৃতের এক অংশ শ্বশুরের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয় অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ সফলভাবে সমাপন হয়েছে। এই ঘটনায় অত্যন্ত আবেগপ্রবন হয়ে শ্বশুর সুলতান মল্লিক জানান,“কথায় বলে, বৌমা হল মেয়ের মতো। সেই জন্য তারাও শ্বশুরকে ‘বাবা’ বলে। কিন্তু এ বার তো ওর শরীরের অংশ ধার করে আমাদের বাবা-মেয়ের মধ্যে সত্যিকারের রক্তের বন্ধন তৈরি হল। এমন বৌমা লোকে ভাগ্য করে পায়”।

অপরদিকে জাহানারার স্বামী আশীষ বলেন,“বারো বছর হল আমাদের বিয়ে হয়েছে। সন্তানও রয়েছে। কিন্তু এই ঘটনায় ওকে যেন নতুন করে আবিষ্কার করলাম। সারাজীবন ওর কাছে কৃতজ্ঞ থাকব”।যদিও শ্বশুরকে যকৃতের অংশ দান করার পরেও নিজের কৃতিত্ব মানতে চাননি জাহানারা।যেভাবে বাবা তাদের সম্পূর্ণ সংসারকে মানুষ করেছেন তার জন্য এটি অত্যন্ত কম বলে মনে করেছে এই বৌমা। ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন,”বাবা অনেক কষ্ট করে আমাদের সংসারকে দাঁড় করিয়েছেন। তিনি বেঁচে থাকলে গোটা সংসার সুখে থাকবে। আমি যা করেছি সংসারের ভালোর জন্য করেছি”।

Back to top button