ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাস, এমএ পাস করার পরেও বাজারে সবজি বিক্রি করছেন ব্যক্তি!

নিজস্ব প্রতিবেদন: আমাদের সমাজের চারপাশে এমন অনেক কিছুই ঘটতে দেখা যায় সাধারণত যেসব জিনিসকে মান্যতা দেওয়া যায় না।তার কারণ আমাদের এই প্রগতিশীল দেশ ভারতে এইসব বিষয়গুলি অনেকটা কলঙ্কের মতো অবস্থানরত থাকে।নিয়তির কঠোর বিধান বলতে যা বোঝায় আমাদের প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তির সাথে ঠিক তাই ঘটেছে।প্রসঙ্গত আজকে আমরা এমন একটি পরিস্থিতির কথা আপনাদের সাথে ভাগ করে নেব ঘটনাটি জানার পর খুব একটা অবাক হবেন না আপনি। তার কারণ আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত এই ধরনের ঘটনা ক্রমাগত ঘটে চলেছে। সাধারণত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ঘটনাগুলিকে আমরা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। কিন্তু বাস্তব সত্যকে কখনো এড়িয়ে চলা যায় না। আমাদের এই প্রতিবেদনে আমরা জানব ময়নাগুড়ি থেকে জলপাইগুড়ি বাজারে সবজি বিক্রি করতে আসা এক ব্যক্তির কথা। আদপে তিনি কখনোই বংশগতভাবে সবজি বিক্রেতা নন। জানা গিয়েছে রীতিমতো ইতিহাসে এম এ পাস ব্যক্তি তিনি।মাধ্যমিক থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিক সব জায়গাতেই বেশ ভালোভাবেই নম্বর নিয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এই ব্যক্তি। কিন্তু দেশের পরিস্থিতির জেরে এখনো পর্যন্ত চাকরির অভাবে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে তাকে।

ময়নাগুড়ির বাসিন্দা এই ব্যক্তির নাম সাগর বিশ্বাস। সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, সাগর বাবু মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করার পর স্থানীয় কলেজে স্নাতক ডিগ্রীর জন্য ভর্তি হন। সেই কোর্স সমাপ্ত হয়ে গেলে এমএ বা স্নাতকোত্তর পাঠেও নিজেকে উত্তীর্ণ করেন তিনি।এরপর বারংবার তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা দিয়ে ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু কোন জায়গাতেই সফলতা মেলেনি তার। পরিবারের বোঝায় ক্রমাগত চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কপালে কিন্তু তাতেও সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি।এমনকি কলেজে পড়ার সময় সম্পর্কে জড়িয়ে এক মহিলাকে বিবাহ করেছিলেন তিনি।কিন্তু আর্থিক অনটনের জেরে বর্তমানে তার স্ত্রী এবং সন্তান অবধি তার থেকে দূরে চলে গিয়েছে।চাকরির ক্ষেত্র অসফল হওয়ার সাথে সাথেই যেন তার সংসার জীবন অসফল হয়ে গিয়েছে।

এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে সাগর বাবু জানিয়েছেন, বাবা মাকে নিয়ে বাড়িতে একাই থাকেন তিনি। ভাই এবং ভাইয়ের স্ত্রী আলাদাভাবে বসবাস করে।চাকরি না পাওয়ার পরেও স্ত্রী এবং সন্তানকে নিয়ে ছোটখাটো ব্যবসা করে বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছেন এই ব্যক্তি। কিন্তু হঠাৎ করে সামান্য ধাক্কার জেরে সেই ব্যবসায় ঘাটতি দেখা যায়। এমতাবস্তায় স্ত্রীর চাহিদা পূরণ করতে না পারায় সংসারে ধীরে ধীরে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। একদিন হঠাৎ করেই সন্তানকে নিয়ে স্ত্রী তার বাপের বাড়িতে চলে যান। হাজারো চেষ্টার পরও তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে আদালতে মামলা চলছে এই দম্পতির।

সাগর বাবুর কথায়,”আমি অনেকবার ওকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলাম। স্ত্রীকে বলেছিলাম আমি তোমার সব দাবি পূরণ করব কিন্তু তুমি মামলা তুলে নাও।কিন্তু দাবি পূরণ করার আগে কোন রকম ভাবেই মামলা তুলতে রাজি হয়নি স্ত্রী। বর্তমানে অনেকটা এভাবেই জীবন কাটছে আমার“। সাগর বাবুর পরিচিত আশেপাশের মানুষজনেরাও জানান, লকডাউন এরপর থেকেই সবজি বিক্রি করেন তিনি। ঘন্টার পর ঘন্টা এসে বসে থাকেন। বাড়িতে খেতেও যাননা অনেক সময়। সবজি বিক্রি হোক বা না হোক অনেকটা অন্যমনস্ক ভাবেই সেখানে দিন কাটে তার। এরপর প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে শিক্ষিতরা কি সত্যি আমাদের সমাজে বঞ্চিত? আমরা এমন অনেক ব্যক্তিকে দেখতে পাই, যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও সফলতার শীর্ষে রয়েছেন।

অথচ যারা দিনের পর দিন নিজের মেধা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদেরকে উত্তীর্ণ করছেন তাদের জন্য যেন কর্মক্ষেত্রে কোন জায়গাই নেই। সাগরবাবুর জীবন এভাবে কেটে গেলেও সকলের ক্ষেত্রে কিন্তু একই ঘটনা ঘটে না। অনেক ক্ষেত্রেই চাকরির অভাবে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন যুবক-যুবতীরা। আবার অনেক সময়তেই চাকরি না পাওয়ার দরুন নানান ধরনের ভুল পথের আশ্রয় নেন তারা।ফলস্বরূপ ক্রমাগত বেকারত্বের সমস্যা বৃদ্ধির জন্য সমাজে আত্মহত্যার সংখ্যা এবং অপরাধমূলক ঘটনার সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

Back to top button