স্বামীর মৃ’ত্যু’র পরপরই ত্রাণ দিতে গিয়ে দূ’র্ঘ’ট’না’য় ছেলের মৃ’ত্যু, দুই নাতনীকে দত্তক নিলেন শ্রেয়া পাণ্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদনকরোনার এই কঠিন পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন অনেক সেলিব্রেটিরা। অনেকে আবার হাসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন। মুরারিপুকুর রোডের বাসিন্দা লোকনাথ দাস তিনটি ম্যাটাডোরে করে জানিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন সুন্দরবনের কিছু অঞ্চলে। ১৮ দিন আগে বাবা মারা যাওয়া এই ব্যক্তি সব কাজ মিটিয়ে ত্রাণ নিয়ে পৌঁছেছিলেন সাধারন মানুষের দরবারে। সেখানে গিয়ে ঘটলো বিপত্তি।

বানতলা লেদার কমপ্লেক্সের সামনে একটি গর্ত পার হতে গিয়ে উল্টে যায় তিনটি গাড়ি। সেই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় লোকনাথ দাসের, তার সঙ্গীরা আহত হন। লোকনাথ দাস ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি, ১৮ দিন আগে স্বামী খোয়ানো মা নিজের সন্তানকে হারালো। তাই স্ত্রীর বয়স মাত্র ২৩ বছর, বাড়িতে ৪ বছর এবং ৬ মাসের দুটি শিশু কন্যা। অভিনেত্রী শ্রেয়া পাণ্ডে খবর পাওয়া মাত্র ছুটে যান পিজি হাসপাতালের সমবেদনা জানাতে যান লোকনাথ বাবুর বাড়িতেও।

পারিবারিক পরিস্থিতি দেখে তিনি সিদ্ধান্ত নেন দুই সন্তানের দায়িত্বভার নিজের কাঁধে নিতে। ছয় মাসের শিশুকে দেখে নিজের শিশুর কথা মনে পড়ে যায় তাঁর।  তিনি বলেন,” ছয় মাসের বাচ্চা শিশু এখনো বাবার স্নেহ না বুঝলেও অনুব্রত কেটে যাচ্ছিলো, যা দেখে আমি নিজেকে সামলাতে পারিনি। পদের দায়িত্ব আমি নিজের কাধে তুলে নিলাম, কারণ বাবা ছাড়া জীবন দিশেহারা। আমার সাথে থাকতে চাইলেও না থাকতে পারে। একজন মহিলা এখনো একমাস হয়নি যিনি স্বামীকে হারিয়েছেন, তার কিছুদিনের মধ্যেই নিজের সন্তান হারানোর যন্ত্রণা একমাত্র সেই বোঝে। তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে আমি বলেছি, আজ থেকে তার দুই নাতনীরর দায়িত্ব আমি নিয়েছি।”

প্রসঙ্গত, সাধন পান্ডের মেয়েকে এর আগে অনেকবার সমাজ সেবামূলক কাজে যুক্ত থাকতে দেখা গিয়েছে, নিজের হাতে সাধারণ মানুষের হাতে দিয়েছেন খাবার তুলে। এবারও তাঁর এই মানবিক সিদ্ধান্ত সবার নজর কাড়লো সবাই দুহাত ভরে আশীর্বাদ করল শ্রেয়া পান্ডেকে।

Back to top button