বৈশাখী কাঁদছে তাই দেখে, শোভনের বুক ফাটছে

নিজস্ব প্রতিবেদন: নারদ মামলায় প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় কে গ্রেফতার করার পর নিজাম প্যালেস থেকে সেন্ট্রাল জেলে নিয়ে যাওয়ার সময় গেটের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়ে শোভনের গার্লফ্রেন্ড বৈশাকি চট্টোপাধ্যায়। শোভনের সাথে একবার দেখা করার অনুরোধ জানান তিনি। গতকাল মধ্যরাতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে চার নেতা-মন্ত্রীকে প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে যায় সিবিআই এর আধিকারিকরা। তাঁদের কে জেলের ভিতরে নিয়ে আসার পরে গেটের বাইরেই আটকে দেয় বৈশাখীকে। তিনি জেলের দরজায় দাঁড়িয়ে অনেক ধাক্কা ধাক্কি করেন। তার পরে গেট ধরেই ওখানেই বসে পড়েন। চিৎকার করে বৈশাখী বলতে থাকেন, ‘‘একবার দেখা করতে দিন। ওষুধটুকু খেতে দিন ওনাকে। ওঁর হাই সুগার আছে। তবুও কিছু খেতে দেওয়া হয়নি তাকে। অমানুষিক ব্যবহার করা হচ্ছে।’’ তিনি আরো বলেন যে ‘‘আপনাদের কোনও লাজলজ্জা নেই। আগে থেকে কোনো কিছু না জানিয়ে এক মহিলার বেডরুমে চার জন পুরুষ ঢুকে এলেন ওঁকে ধরার জন্য। আর এখন বাড়ির লোকের সঙ্গে তাকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।’’

সোমবার মাঝরাতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে চার নেতা-মন্ত্রীকে প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে আসেন সিবিআই আধিকারিকরা। তাঁদের জেলের ভিতরে নিয়ে যাওয়ার পরে গেটের বাইরেই আটকে দেওয়া হয় বৈশাখীকে। তিনি জেলের দরজা ধরে অনেকক্ষণ ধাক্কা মারেন। তার পরে গেট ধরেই বসে পড়েন। চিৎকার করে বৈশাখী বলতে থাকেন, ‘‘একবার দেখতে দিন। ওষুধটুকু খেতে দিন। ওঁর হাই সুগার। তবুও কিছু খেতে দেওয়া হয়নি। অমানুষিক ব্যবহার করা হচ্ছে।’’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘আপনাদের কোনও লজ্জাশরম নেই। আগে থেকে না জানিয়ে এক মহিলার বেডরুমে চার জন পুরুষ ঢুকে এলেন ওঁকে ধরার জন্য। আর এখন বাড়ির লোকের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।’’ শোভনকে গ্রেফতার করার পর নিজাম প্যালেসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আইনজীবী নিয়ে ছুটে আসেন তাঁর স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়। আর মাঝ রাতে যখন শোভনকে প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে যাওয়া হল, সেখানে দেখা গেল বৈশাখীকে। যদিও শোভনের ছেলেও সেখানে ছিলেন।

জেলে যাওয়ার পরে অসুস্থ বোধ করেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ভর্তি করা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে উডবার্ন ওয়ার্ডের ১০৬ নম্বর ঘরে তিনি ভর্তি আছেন। শ্বাসকষ্ট নিয়ে তার পাশেই ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। শোভনের সঙ্গে তাঁকেও গ্রেফতার করেছে সিবিআই আধিকারিকরা। সোমবার নারদ মামলায় শোভন ও মদনের সঙ্গে রাজ্যের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত মুখোপাধ্যায়কেও গ্রেফতার করে সিবিআই। তার পর সারাদিন নাটকের পরে সন্ধ্যাবেলা সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত ৪ জনকেই জামিন দেওয়া হয়।পরে সেই জামিনে স্থগিতাদেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। হাই কোর্ট জানিয়ে দেয় যে বুধবার মামলার পরবর্তী শুনানি না জানানো পর্যন্ত প্রেসিডেন্সি জেলেই থাকতে হবে ৪ নেতা-মন্ত্রীকে। তার পরেই মাঝরাতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ৪ জনকে সেন্ট্রাল জেলে নিয়ে যাওয়া হয়।।

Back to top button