ব্যর্থ হয়েছে বিজ্ঞানও! দিনে তিন বার রং বদলায় রহস্যময় শিবলিঙ্গ, রইল রহস্যে ভরা ইতিহাস

নিজস্ব প্রতিবেদন: হিন্দু দেবদেবীদের মধ্যে এক প্রধান দেবতা হলেন মহাদেব (শিব)। শিব হলেন সর্বজনীন এবং পুরো বিশ্বজগতের কর্তা। সৃষ্টি-স্থিতি-লয়রূপ এই তিন কারণের উৎস তিনি। তিনি অন্ধকারের অতীত, আদি ও অন্তবিহীন দেব। তিনি হলেন দেবাধিদেব মহাদেব।

হিন্দু মহিলারা শিবের মতো বর পাওয়ার আশাতে বাবার মাথায় জল ঢেলে থাকেন। বাবার আশির্বাদে তাঁদের সাফল্য প্রাপ্তি হয়। শিবলিঙ্গের মাথায় জল ঢেলে মানুষ পূর্ণ্য লাভ করে। শিবলিঙ্গের মহিমা আমরা অনেকই দেখেছি। ইনি সকল মানুষের কাছে পরম পূজনীয় একজন ভগবান। তিনি খুব সামান্য ভক্তিতেই সন্তুষ্ট হয়ে যান। সারা পৃথিবিতে তাঁর ভক্তকূল ছড়িয়ে রয়েছে।

নিষ্পাপ মনে ভক্তি ভরে বাবার কাছে কিছু চাইলে, বাবা তাঁর ভক্তকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না। বাবা সকলেরই মনস্কামনা পূর্ণ করে থাকেন, সেই কারণে বহু মানুষ শিবরাত্রির করার পাশাপাশি তারকেশ্বরে গিয়ে বাবার মাথায় জল ঢেলে বাবাকে সন্তুষ্ট করেন। তবে এমন এক শিবলিঙ্গ আছে যা, দিনে তিনবার রং বদল করে, এই শিবলিঙ্গটি প্রতিষ্ঠিত রয়েছে রাজস্থানের ধৌলপুর জেলার অচলেশ্বর মহাদেব মন্দিরে।

বিজ্ঞানও এই বিষয়টির বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য দিতে ব্যার্থ হয়েছে। রাজস্থান এবং মধ্য প্রদেশের সীমান্তে এই ধৌলপুর জেলাটি অবস্থিত।এই অঞ্চলটি চাম্বলের জলাশয়ের জন্যও বিখ্যাত। একসময় এখানে বিদ্রোহী ও দস্যুদের শাসন ছিল। এখানকার উপত্যকাগুলিতেই অচলেশ্বর মহাদেবের মন্দির স্থাপিত হয়েছিল। এই মন্দিরের বৃহত্তম বৈশিষ্ট্য হল এখানে অবস্থিত শিবলিঙ্গ, যেটি দিনে তিনবার রঙ পরিবর্তন করে।

এর রঙ সকালে থাকে লাল, বিকালে হয় জাফরান এবং রাতে হয় কালো ।এই শিবলিঙ্গের আর একটি মজার বিষয় হল আজ অবধি এই শিবলিঙ্গের কোনও শেষ পাওয়া যায়নি। আশেপাশের লোকেরা বলছেন যে বহু বছর আগে এই শিবলিঙ্গটির রঙ পরিবর্তন হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করার জন্য এবং এর শেষ দেখার জন্য খনন করা হয়েছিল। তখনই বোঝা গিয়েছিল যে এই শিবলিঙ্গের কোনও শেষ নেই। সেই থেকে এই শিবলিঙ্গের গৌরব আরও বেড়েছে।

তবে এই শিবলিঙ্গের রঙ কেন পরিবর্তন হয়, তা এখনও পর্যন্ত বিজ্ঞানও আবিষ্কার করতে পারেনি। এই পৃথিবীতে এমন অনেক মোহ মায়া আছে, যা বিজ্ঞানেরও সাধ্যের বাইরে, তারই একটা জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হলো এই শিবলিঙ্গ।

Back to top button