উচ্চতা মাত্র তিন ফুট, হয়েছেন একের পর এক বঞ্চনার শিকার, আজ তিনি IAS অফিসার

নিজস্ব প্রতিবেদন: মনের জোর থাকলে সকল বাধা বিপত্তিকে পেরিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করা যায়। আরতি ডোগরা নামে এক কন্যা সেটি আবার প্রমাণ করলো। ছোট থেকেই একের পর এক বৈষম্যের শিকার হয়েছেন, কারণ তাঁর উচ্চতা মাত্র তিন ফুট। তবুও হাল ছাড়েননি তিনি, সমাজের সকল বাধা-বিপত্তিকে পেরিয়ে আজ তিনি একজন সফল IAS অফিসার। বর্তমানে তিনি কর্মরতা রাজস্থানের আজমেরে জেলা আধিকারিক পদে।

আরতি ডোগরার জন্ম উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে। তার উচ্চতা মাত্র ৩ ফুট ৬ ইঞ্চি। তার জন্মের সময় ডাক্তারেরা জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি আর পাঁচটা সাধারণ শিশুর মত সাধারন স্কুলে পড়তে পারবেনা। কিন্তু তার মা-বাবা তাকে সাধারণ স্কুলেই ভর্তি করান। যখন আরতি আস্তে আস্তে বড় হতে থাকেন, সমাজের বিভিন্ন বঞ্চনার শিকার হতে থাকেন তিনি। কিন্তু হাল না ছেড়ে চালিয়ে যান পড়াশোনা।

ভারতীয় সেনারা একজন অফিসার আরতির বাবা রাজেন্দ্র ডোগরা। এবং তার মা কুমকুম ডোগরা একজন স্কুল শিক্ষিকা। বাবা মায়ের স্বপ্ন ছিল মেয়ে বড় হয়ে তাদের নাম উজ্জ্বল করবে। বাবা-মাকে নিরাশ করেননি তিনি। আরতি দেরাদুনের বেলহাম গার্লস স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডি শ্রীরাম কলেজ থেকে ইকোনমিক্সে গ্রাজুয়েশন করেন। এরপর শুরু করে দেন UPSC Indian Administrative Service এর প্রস্তুতি। সাফল্যের গণ্ডি পেরিয়ে আরতি ২০০৬ সালে IAS অফিসার হয়ে ওঠেন।

আজও দেশের হাজার হাজার মানুষকে অনুপ্রাণিত করে এই আরতির কাহিনী। শত লাঞ্ছনা-বঞ্চনার পরেও শুধুমাত্র অদম্য মনের জোর এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্য আজ তাঁর হাতের মুঠোয়। সারা জীবন সাথে ছিলেন একমাত্র তার মা-বাবা। সেই সমাজই আজ আরতিকে সম্মান জানায়, যে সমাজ একদিন তাঁকে বাজে নজরে দেখতো।

আজ তিনি এই জায়গায় পৌঁছেছেন অদম্য ইচ্ছা শক্তির জোরে। আরতি আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পছন্দের একজন মানুষ হয়ে উঠেছেন। তিনি বেশ গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন নিজের কর্ম জীবনে। পেয়েছেন বহু পুরস্কারও। অনেক শুভেচ্ছা রইল তাঁর আগামীর জীবনের জন্য।

Back to top button