বুধ থেকেই শহরের পথে বাস? সব কর্মীদের আগামিকাল হাজিরার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদন: রাস্তায় জনগণের সংখ্যা দিনের পর দিন বাড়তেই চলেছে। নিত্য প্রয়োজনীয় কাজের জন্য মানুষকে রাস্তায় বেরোতে হচ্ছে আংশিক লকডাউন থাকলেও। সরকারি স্পেশাল ভাগগুলি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে চালানো শুরু করতে পারে রাজ্য পরিবহণ দফতর। সকল ডিপোর, সমস্ত চালক, কন্ডাকটর, মেনটেনেন্স বিভাগের কর্মীসহ সকলকেই উপস্থিত হতে বলা হয়েছে আগামীকাল। অর্থাৎ ইঙ্গিত মিলছে ধাপে ধাপে যানবাহন পরিষেবা স্বাভাবিক করার।

এখন শুধুমাত্র স্পেশাল বাস চলছে স্বাস্থ্য কর্মী, পুলিশ, নবান্ন, মহাকরণে যাতায়াত করা কর্মীদের জন্য। সাধারণ যাত্রীদের মতে সুবিধা হবে সরকারি বাসের সংখ্যা বাড়ালে। অন্যদিকে বেসরকারি বাস মালিক সংগঠনগুলি সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করছে বাসের যাতায়াত ভাড়া বৃদ্ধি করার জন্য। বাস মালিক সংগঠনগুলি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, বাসের ভাড়া না বাড়ানো হলে তারা রাস্তায় আন্দোলনে নামবে।

উল্লেখ্য, জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট ২০১৮ সালে কলকাতার রাজপথে নেমেছিল। ডিজেলের অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে এই সংগঠন আন্দোলনে নেমেছিল কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। সংগঠনের দাবী সেই আন্দোলনের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও ক্রমাগত বাড়তেই চলেছে ডিজেলের মূল্য। গতবছর মার্চ মাসে লকডাউন শুরু হওয়া থেকে এখনো অবধি স্বাভাবিক হয়নি বেসরকারি বাস পরিষেবা।

সংগঠনের নেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন,” ব্যাংকের ই এম আই, বিমা ,রাস্তার কর ,পারমিট ফিজ এগুলো বাস চললেও দিতে হয়, না চললেও দিতে হয়। গত মার্চ মাস থেকে আবেদন করা সত্বেও এর কোনো সুরাহা হয়নি। রাজ্য সরকার কিছুটা সাহায্য করলেও, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে কোনো সাহায্যের হাত আসেনি। পরিবহনমন্ত্রী কেউ বিষয়টি দফায় দফায় জানিয়েছিলাম ডিজেলের মূল্য প্রায় ৯০টাকা এই পরিস্থিতিতে বাস পরিষেবা চালু হলে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি করা হোক।”

সঙ্গে এও দাবি করেছেন ডিজেলের উপর যত দ্রুত সম্ভব জিএসটি লাগু করা হোক। কেন্দ্রীয় সরকার যেন মুকুব করে নেয় ব্যাংকের ই এম আই, বিমা ,রাস্তার কর ,পারমিট ফিজ। সংগঠনের দাবি, ১৯৭৫ সালে শেষবারের মতো পরিবহন ভাড়া দ্বিগুণ হয়েছিল ১০ পয়সা থেকে ২০ পয়সার তারপর থেকে কখনো এই ঘটনা ঘটতে দেখা যায়নি। অন্য রাজ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, বাজারের সঙ্গে সঙ্গে তারিখে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি করা হোক, এমনটাই আবেদন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সংগঠনের।

বাস শ্রমিকরা জানিয়েছেন,” অনেক মানবিক আমাদের মুখ্যমন্ত্রী। বিজ্ঞানভিত্তিক ভাবে বাসের ভাড়া বৃদ্ধি করা হোক, এটাই ওনার কাছে আমাদের দাবি। লকডাউন এর ফলে যে বিশাল লোকসানের বোঝা আমাদের মাথায় চেপেছে, রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় উভয় সরকারকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে, তা থেকে রেহাই পেতে। বাস মালিকরা দাবি করেছে, যেহেতু, মহামান্য আদালত দূষণের কথা চিন্তা করে ঘোষণা করেছিল 15 বছর বয়সের বেশি বাস শহরে চালানো যাবে না।

যেহেতু ২০২০ সালে সমস্ত বাস বন্ধ ছিল, সেহেতু বাস বাতিল করার সময়সীমা বাড়াতে হবে। জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের তরফ থেকে জানানো হয়েছে বাঁশ শিল্প বাঁচাতে হলে বিজ্ঞানভিত্তিক বাসভাড়া ঘোষণা করতে হবে, এবং আমাদের তরফ থেকে যা দাবি করা হয়েছে, সেগুলি না মানলে লোকসানের বোঝা আরও বাড়তে থাকবে।

জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন,” বাস ভাড়া অতি অবিলম্বে বৃদ্ধি করা দরকার। ব্যাংক ই এম আই, বিমা, টোল ট্যাক্স মুকুব করতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। একটি বাসের সময়কাল যে ১৫ বছর ছিল, সেটিকে বৃদ্ধি করতে হবে। এতদিন লকডাউন চলার ফলে বন্ধ থাকা বাসের মালিক এবং শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে।”

Back to top button