“বেতনের অর্থ দিয়ে রাস্তাঘাট মেরামত করব পানীয় জলের সংকট নিরসন করব।”- প্রতিজ্ঞা করলেন শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সবচেয়ে দরিদ্র প্রার্থী ছিলেন বাঁকুড়া শালতোড়া কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী চন্দনা বাউড়ি। যিনি নিজের দিনমজুর স্বামী এবং দুই সন্তানের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করেন, বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করেছিল বাঁকুড়ার শালতোড়ায়।

সকালবেলা প্রচারে বার হতেন পান্তা ভাত খেয়ে। প্রচারেরপ্রথম থেকেই চন্দনা বাউড়ি যথেষ্ট জনসমর্থন পেয়েছেন। অবশেষে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতাকে ভোটে হারিয়ে জয়লাভ করেন ওই কেন্দ্রে, রাতারাতি চলে আসেন শিরোনামের শীর্ষে। নির্বাচনে জিতলে পানীয় জলের বন্দোবস্ত করবেন বলে পূর্বেই জানিয়েছিলেন চন্দনা। আশ্বাস দেন মানুষের পাশে থাকবেন, রাস্তা মেরামত করবেন। চন্দনার প্রতি আস্থা রেখেছেন শালতোড়ার মানুষেরা। চন্দনা বাউরী জানিয়েছেন, বিধায়ক হিসেবে তিনি প্রতি মাসে যে ৮২ হাজার টাকা পাবেন তার বেশিরভাগ অংশই অসহায়-দুঃস্থ মানুষদের সাহায্যের কাজে লাগাবেন।

প্রথমবার যখন চন্দনা নিজের মাসিক বেতনের কথা শোনেন, আকাশ থেকে পড়ে ছিলেন তিনি। এক নিম্নবিত্ত পরিবারের এই গৃহবধূ সঙ্গে সঙ্গে জানিয়েছিলেন,” এত টাকা আমাদের কাজে লাগবে না। আমরা সাধারণভাবে জীবন যাপনে অভ্যস্ত। আমার গাড়ির দরকার নেই, আমার সাইকেল আছে, স্বামীর মোটরসাইকেল আছে ওতেই আমাদের চলে যাবে।”

নিজের বাড়ি টিভি নেই, বিধায়ক হওয়ার খবর শুনে ছিলেন লোকের বাড়ি থেকে। তবুও ইচ্ছা নেই টিভি কেনার, জানিয়েছেন,” বর্তমানে আমার কোন ইচ্ছাই নেই টিভি কেনার কিংবা বাড়ি বানানোর। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি বানানোর টাকা পেয়েছি ওতেই আমি বাড়ি বানাবো। ‌ অত টাকা আমার প্রয়োজন নেই বরং ওই টাকা দিয়ে আমি আমাদের এখানে রাস্তাঘাট মেরামত করব, পানীয় জলের সংকট দূর করব। আমার ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শেখাবো।”

বেতনের টাকা আর কিভাবে ব্যবহার করা যায় শুভেন্দু বাবুর কাছ থেকে পরামর্শ নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন,” শুভেন্দু অধিকারী একজন ভালো জননেতা। ‌ ওনার উপর আমার ভরসা রয়েছে। আমার বেতনের টাকা কিভাবে খরচ করব, ওনার থেকে এই বিষয়ে পরামর্শ নেব।”

Back to top button