রাজনীতি ভুলে সৌজন্য, মুকুল রায়ের স্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে অভিষেক, শুভ্রাংশুর সঙ্গে কথা

নিজস্ব প্রতিবেদনরাজনীতির ময়দানে আছেন যুযুধান দু’জন। এই রাজনীতির পথেই দীর্ঘদিন এক সাথে পথ হেঁটেছেন তারা। আপাতত সেই পথ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। তবু স্বাভাবিক সৌজন্য ভুলে যাননি কেউই। বুধবার সন্ধেবেলা বিজেপির সহ-সভাপতি মুকুল রায়ের (Mukul Roy) করোনা আক্রান্ত স্ত্রীকে দেখতে বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে গেলেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সেখানে কিছুক্ষণ থেকে কৃষ্ণা রায়ের শারীরিক অবস্থার কিছুটা খোঁজখবর নিলেন। তবে শোনা যায়, এখানে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়নি মুকুল রায়ের। তাঁর পুত্র শুভ্রাংশুর সঙ্গে কথা বলার পর অভিষেক ফিরে চলে যান।

‘যশ’ বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করতে বুধবার দুই ২৪ পরগনায় যান ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সেখান থেকে ফিরে আসার সময় সন্ধে সাড়ে ৬টা নাগাদ বাইপাসের ধারে অ্যাপোলো হাসপাতালে যান। এখানেই ভরতি মুকুল রায়ের স্ত্রী কৃষ্ণাদেবী। গত ১৫ মে করোনা ভাইরাসে (Coronavirus) আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। সেই থেকে এই হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে তাঁর চিকিৎসা চলছে। এই মুহূর্তে কৃষ্ণাদেবী ভেন্টিলেশনে রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক। সেই খবর শুনেই হাসপাতালে তাঁকে দেখতে যান যুব তৃণমূলের সভাপতি। মিনিট পনেরো তিনি সেই হাসপাতালে ছিলেন। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা রকম গুজব শুরু হলেও, নিতান্তই সৌজন্যের খাতিরে মুকুল রায়ের স্ত্রীকে দেখতে অভিষেকের হাসপাতালে যাওয়া বলে তৃণমূল প্রার্থীরা জানান।

তবে এর মাঝেও একটি বিষয় তাৎপর্যপূর্ণ। বুধবার মুকুল রায়ের সঙ্গে নয়, অভিষেকের সঙ্গে দেখা হয়েছে মুকুলপুত্র শুভ্রাংশুর (Subhrangsu Roy)। যিনি বাবার পরামর্শে তৃণমূল বিধায়কের পদ ছেড়ে, দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করার পর চলতি বিধানসভা নির্বাচনে চেনা কেন্দ্র থেকেই হেরে যান। তার কয়েকদিন পর ফেসবুক পোস্টে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। শুভ্রাংশুর পোস্টে লেখা ছিল, ”জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা করার আগে আত্মসমালোচনা করা বেশি প্রয়োজন।” এতে বোঝা গিয়েছিল, বিজেপির পরিচিত সুর নেই শুভ্রাংশুর। বুধবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাসপাতালে দেখে, তাঁর সঙ্গে কথা বলে হতবাক শুভ্রাংশু। তবে কি শুভ্রাংশুর দলবদল হতে চলেছে? নাকি উভয়ের কথোপকথন শুধুই সৌজন্যের? প্রশ্ন আছেই।

Back to top button