দুর্যোগ শুরু সোমবার থেকেই, বুধবার সন্ধেয় ভয়ঙ্কর আকার নিতে পারে ঘূর্ণিঝড় “যশ”

নিজস্ব প্রতিবেদনআজ উত্তর আন্দামান সাগর এবং পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর থেকে একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। যা প্রচুর শক্তি সঞ্চয় করে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। তারপরেই ঘূর্ণিঝড় এগিয়ে আসবে ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে দিকে। সজোরে আঘাত হানাবে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতেও। ২২ শে মে বিকালের পর এই ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসবে। ৩ থেকে ৪ দিন এর তান্ডব চলতে থাকবে।

জানা যাচ্ছে যে এই ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি ইতিমধ্যেই বেড়ে গিয়েছে। আগামী ২৫ শে মে’র মধ্যরাত থেকে আগামী ২৬ শে মে ভোরবেলার মধ্যে বাংলায় আছড়ে পড়তে পারে জশ। এই ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলা করার জন্য নবান্নের পাশেই খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। আমফানের মতো যাতে আর কোনো সমস্যায় না পরে বাংলা তাই ঝড় পরবর্তী পর্যায়ে তাই এই কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী আগামী ২৫ শে মে এবং ২৬ শে মে রাতে কন্ট্রোল রুমে থাকবেন এবং ঘূর্ণিঝড়ের এই আবহে সমস্ত কাজকর্ম পরিচালনা করবেন তিনি। জানা যাচ্ছে যে সুন্দরবনের লাগোয়া অঞ্চলগুলিতে কুইক রেসপন্স টিম এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়াও ৫০ হাজার ইলেকট্রিক পোল মজুত করা হয়েছে এবং স্যাটেলাইট ফোন থেকে শুরু করে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে সমস্ত এলাকায়।

যেসমস্ত এলাকায় যথেষ্ট ক্ষয় ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে শুকনো খাবার এবং বেবি ফুড, এবং ত্রিপল। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ১১৫ টি সাইক্লোন সেন্টারে এবং প্রায় ২৫০ টি আইসিডিএস স্কুলগুলিতে ঝড় কবলিত এলাকার মানুষদের রাখা ব্যাবস্থা করা হচ্ছে। জরুরী দপ্তর গুলিতে কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এই ঝর চলাকালীন যাতে পানীয় জলের কোন অসুবিধা না হয় তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন গুলিকে প্রচুর পরিমান জল পাউচ প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নবান্নের তরফ থেকে।

কলকাতা পুলিশের মধ্যে থেকে ২০ টি বিপর্যয় মোকাবিলা টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অনেক বেশি সংখ্যায় মজুদ করা হচ্ছে অত্যাধুনিক গাছ কাটার মেশিন। রাজ্যকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে নৌসেনা এবং উপকূল রক্ষী বাহিনীর দল। বিদ্যুৎ বিভাগ কেও সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। ঝড় পরবর্তী সময়ে জাতে বিদ্যুৎ পরিষেবা তাড়াতাড়ি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় তার জন্য আগাম ব্যবস্থা নিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Back to top button