বাংলায় হিংসা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ১৪৬ বিশিষ্টজন চিঠি দিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দকে

নিজস্ব প্রতিবেদন: ২ মে ভোটের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিহিংসার খবর শোনা যাচ্ছিলো। বিরোধী পক্ষ বিশেষ করে বিজেপির কর্মীরা এই ভোট পরবর্তী হিংসার কারণে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। এখনো বিজেপির অনেক কর্মীরা ঘর ছাড়া বলে দাবি করছে বিজেপির নেতারা।এর আগে কোচবিহারে বহু বিজেপি কর্মী প্রানের ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পাশের রাজ্য অসমেও পালিয়ে যায়। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় নিজে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।

তারপর রাজ্যপাল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র এলাকা গুলিতে ভোট পরবর্তী হিংসায় আক্রান্তদের সকল কর্মী দের সঙ্গেও দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন, এবং সেখান থেকে তিনি রাজ্য সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, ‘আমাকে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে বাধ্য করবেন না।” তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা রাজ্যপালের এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন, এবং বলেন যে তিনি বিজেপির কর্মী হিসেবে কাজ করছেন।

বলে দিই, এখনও পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা নিয়ে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রথমটি করা হয়েছে, একটি এনজিও-র তরফ থেকে, দ্বিতীয়টি একজন বিশিষ্ট আইনজীবী করেছেন। আগামী সপ্তাহে এই মামলায় শুনানি রয়েছে। দুটি মামলাতেই রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার কথা বলা হয়েছে।বলা হয়েছে যে ২ মে-র পর রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা একদম ভেঙে পড়েছে। এমনকি রাজ্যের প্রশাসনের বিরুদ্ধে শাসক দল আশ্রিত গুন্ডাদের সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে সেখানে।

এবার পশ্চিমবঙ্গের ভোট পরবর্তীকালে এই হিংসা নিয়ে চিঠি গেল স্বয়ং রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে। আইনজীবী, প্রাক্তন বিচারপতি, আমলা এবং রাষ্ট্রদূত সমেত ১৪৬ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে চিঠি লিখেছেন , তাতে তারা পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান এই পরস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে যে, রাজ্যের বর্তমান পরস্থিতি খুবই খারাপ। এই পরিস্থিতিতে যদি মানুষকে বাঁচাতে হয় তাহলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন লাগু করতে হবে।।

Back to top button