কেন বাংলা সিনেমা কেউ দেখছে না, যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী

বংট্রেন্ডি অনলাইন ডেস্ক: বাংলা সিনেমা নাকি আগের মতো জনপ্রিয়তা অর্জন করে উঠতে পারছে না-এমনটাই বক্তব্য তারকা, প্রয়োজক থেকে শুরু করে বাংলা সিনেমা প্রেমীদের। তাই বাংলার শিল্পীরা ‘বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচান’, ‘বাংলা ছবির পাশে এসে দাঁড়ান’ এই দাবি জানাচ্ছেন। তাও দর্শকরা বেশ উদাসীন বাংলা ছবির প্রতি। এখন দক্ষিণী ছবির রমরমার বাজার। ফলে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা শোচনীয়। এমনকি হলের সংখ্যাও কমছে দিনকে দিন। হলে সিনেমা এলেও বাংলা সিনেমাতে দর্শকদের ভিড় চোখের পরার মতো হচ্ছে না।

এবারে এই প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখলেন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। তিনি একটি সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে বলেছেন, ভালো ছবি তৈরি হলে মানুষ সেই ছবি এমনিই দেখবেন। বাংলা ছবির পাশে দাঁড়াতে বলা খারাপ নয়। কেউ একটা ছবি তৈরি করে মানুষকে সেটা দেখতে বলতেই পারেন। সেটাই হয়তো পাশে এসে দাড়াতে বলা। সবাই জানেন বাংলা ছবি খুব ভালো চলছে না। হাউসফুল কমে গিয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিকে যদি বাঁচাতে হয় তাহলে মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু সবকিছু নির্ভর করে ছবির মানের উপর। তাই ছবির মানোন্নয়নের দিকে মন দিতে বলেছেন।

এমনকি তিনি দাবি করেছেন যে, এখনকার দিনে দর্শককে টাকা দিয়ে হল হাউসফুল করানো হয়। তবে একটা ছবি চালাতে হলে ৩-৪ সপ্তাহ ছবিটা ভালোভাবে চলতে হয়। তাঁর সংযোজন ভাল সিনেমা তৈরি করতে গিয়ে কার্যত গ্রাম বাংলার দর্শকদের হারিয়েছে টলিউড। দক্ষিণে যেমন পুষ্পা, আর আর আরের মত কমার্শিয়াল ছবি তৈরি হয়, সেই ছবি একসময় টলিউডেও হয়েছে। যেখানে হিরোকে হাইলাইট করা হয়। আজগুবি শট থাকে, মারধোর থাকে বেশি। এই ছবি বানাতে ভুলে গিয়েছে বাংলা। ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’, ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’কে ‘খারাপ ছবি’ বলে এর চেয়ে ভালো সিনেমা বানাতে চায় টলিউড। কিন্তু আদতে লাভ হচ্ছে না।

একইসাথে চিরঞ্জিত চক্রবর্তী ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তার ফলে বাংলা ছবির গ্রহণযোগ্য হ্রাসের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন এখন ‘আলুওয়ালা পটলওয়ালাদের’ কাছে অ্যান্ড্রয়েড ফোন নেই। তারা যখন মাল্টিপ্লেক্সে গিয়ে দেখেন যে একটা টিকিটের দাম ১৮০ টাকা তখন বাংলা ছবি দেখার ইচ্ছা জাগে না। তিনি আরও বলেন তাদের সময়ের যে ছবিগুলোকে একসময় খারাপ ছবির তালিকায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল সেই ধরনের ছবিগুলিই এখন টলিউডকে বাঁচাতে পারে। তাই তিনি গরীব মানুষের জন্যও ছবি বানাতে বলেছেন।

Back to top button