ছেলে প্রবাসে, কোভিড আক্রান্তকে কোলে করে অ্যাম্বুল্যান্সে তুললেন Red Volunteer-রা

নিজস্ব প্রতিবেদন: ছেলে কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে থাকে। বাড়িতে কোভিড আক্রান্ত বাবার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমছে, সঙ্গে বেড়েছে শ্বাসকষ্ট।খবর পেয়ে হাজির রেড ভলান্টিয়ার্সের সদস্যরা। রোগীকে কোলে নিয়ে তুলে নিয়ে গেলেন অ্যাম্বুল্যান্সে। ঘটনাটি বোলপুরের ঘটনা।

করোনা আবহে আতঙ্কে কাটাচ্ছে সকলেই। রাজ্যে আইনি বিধিনিষেধের খুবই কড়াকড়া, কার্যত গোটা রাজ্যে লকডাউন চলছে। এই সঙ্কটকালে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন রেড ভোলেনটিয়ার্সের কর্মীরা। কর্মসূত্রে অন্যরাজ্যে থাকা এক যুবককেও এবার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন এই সংগঠনের সদস্যরা।

জানা যায় যে, বোলপুরের অরবিন্দপল্লিতে স্বামী-স্ত্রী তারা একাই থাকেন।তাদের দু’জনেরই যথেষ্ট বয়স বেড়েছে।তাদের একমাত্র ছেলে কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুতে থাকেন। বাবা করোনা আক্রান্ত হন। বাড়িতেই চিকিত্‍সা চলছিল তার। শনিবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ রাতে হঠাৎই শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে ওই বৃদ্ধের। দেহে অক্সিজেনের মাত্রা কমছে, সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বেড়েছে। স্বামীর এই অবস্থা দেখে তাড়াতাড়ি বেঙ্গালুরুতে ছেলেকে ফোন ওই বৃদ্ধের স্ত্রী। কিন্তু এত দূর থেকে তিনিই কী বা করবেন! এইরকম পরিস্থিতিতে,সোশ্যাল মিডিয়ায় রেড ভলান্টিয়ার্সের বোলপুর পেজটি নজরে পড়ে ওই যুবকের।

ফোন করার প্রায় সাথে সাথেই বোলপুরের অরবিন্দপল্লিতে পৌঁছে যান সেই সংগঠনের সদস্যরা। তারপর প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুল্যান্স ডাকা হয়। এমনকী, পিপিই কিট পড়ে কোভিড আত্রান্ত বৃদ্ধকে বাড়ি থেকে কোল করে এনে সেই অ্যাম্বুল্যান্সের তুলেও দেন রেড ভলান্টিয়ার্সের সদস্যরা!

রোগীর বাড়ির কাছাকাছি কেন অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছল না? বোলপুর রেড ভলান্টিয়ার্সের সদস্য শুভ্রাংশু বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে, যে অ্যাম্বুল্যান্সটি ডাকা হয়েছিল, সেই অ্যাম্বুল্যান্সে গায়ে লেখাটি গাড়িটি শুধুমাত্র কোভিড রোগীদের জন্যই। অথচ পিপিই কিট তো দূরের কথা, চালক ও খালাসি উভয়ের হাতে একটা গ্লাভস পর্যন্ত ছিল না। কোভিড মোকাবিলার বর্ম বলতে মুখে শুধু সার্জিক্যাল মাস্ক! এমনকী, স্ট্রেচার না থাকায় অ্যাম্বুল্যান্সটি ১০০ মিটার দূরে দাঁড় করিয়ে বাড়ি কোলে করে আনতে হয় রোগীকে।।

Back to top button