১০৪ বছরের নিয়ম ভাঙলো ভারত সেবাশ্রম, করোনা রোগীদের জন্য রান্না হচ্ছে মাছ-মাংস-ডিম

নিজস্ব প্রতিবেদন: বিগত বছর থেকেই করোনা ভাইরাসের আক্রমণের ফলে সারা দেশজুড়ে সংকটজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। তার কারণ এখনো পর্যন্ত ভ্যাকসিনের আগমন ঘটে গেলেও এই ভাইরাসের বিশেষ কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারা যায়নি।সম্প্রতি চলতি বছরের শুরুর দিকে ভ্যাকসিন এর আগমনের সময় কিছুটা ভাইরাসের প্রকোপ কমলেও আবার বেড়েছে করণা ভাইরাসের প্রকোপ। এখনো পর্যন্ত সারা দেশে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৫ হাজার ৬৯ জন । মৃত্যু হয়েছে ২ লক্ষ ৯৫ হাজার ৫০৮ জনের। সুস্থ হয়েছেন ২ কোটি ৩০ লক্ষ ৫৯ হাজার ১৭ জন। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২ লক্ষ ২৯ হাজার ৮০৫ জন। মৃত্যু হয়েছে মোট ১৪ হাজার ৫৪ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৫৭০ জন।পশ্চিমবঙ্গের বুকে গত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ৮৪৭ জন। গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু হয়েছে ১৫৯ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ্য হয়েছেন ১৯ হাজার ১৭ জন।

১৯১৭ সালে শ্রীমত স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজ ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রতিস্থা করেছিলেন। তখন থেকে আশ্রমে আমিষ খাবারের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। এই ১০৪ বছরে গোটা ভারত তথা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের আশ্রমে কোনদিনও কোনও আমিষ খাবার ঢোকেনি। কিন্তু সেই ১০৪ বছরের পুরনো প্রথা ভেঙে করোনা রোগীদের জন্য আশ্রমে এখন মাছ-মাংস এবং ডিম সেদ্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে আমিষ স্যুপও। আশ্রমের কর্তৃপক্ষরা জানান, করোনা রোগীদের জন্যই এই কাজ করা হচ্ছে।

গড়িয়ার ভারত সেবাশ্রম সংঘে কোভিড হাসপাতাল খোলা হয়েছে। এই আশ্রমের দুই তলায় করোনা রোগীদের থাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। এখানে মোট ৩০ টি বেড রয়েছে। তার মধ্যে ২০ টি বেডে রয়েছে অক্সিজেনের ব্যবস্থা। করোনা রোগীদের শরীরে নতুন কোষ তৈরি করার জন্য তাদের উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে হবে। তাই ১০৪ বছরের নিয়ম ভেঙে এই আশ্রমের স্বামীজীরা রান্না করছেন মাছ-মাংস-ডিম। এগুলি করোনা রোগীদের মুখে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে স্বামীজীরা বলছেন যে বর্তমানে ধর্মীয় রীতিনীতির ঊর্ধে আগে মানুষের জীবন।

Back to top button