কাঁদিয়েছে আয়লা, শিয়রে ইয়াস, দুয়ারে আবারও কান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদনসোশ্যাল মিডিয়াতে বামনেতা কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় সম্পর্কিত পোস্ট দেখা যাচ্ছিল সুন্দরবন অঞ্চলে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ইয়াস-এর আছড়ে পড়ার খবর মিলতেই। বলা হচ্ছিল,” ঝড়ের আগে কান্তি আসে।” তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার মানুষদের বিশ্বাস হারাইনি।তিনবার হেরেও এই বামনেতা এই ভয়াবহ দুর্যোগে রায়দিঘীর মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভোলেননি।

এই প্রাক্তন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় আয়লা, বুলবুল, ফণী, আমফান, ঝড়ের আগে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভোলেননি। আয়লার সময় যখন সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা জলে জলাকার, পানীয় জলের অভাবে মানুষ ছটফট করছে, তখন কান্তি বাবু খাবার, জল, ত্রিপল নিয়ে পৌঁছেছেন মানুষের কাছে। বুলবুল, ফণীর সময়ও থেকেছেন মানুষের পাশে। ২০২০সালে লকডাউন চলাকালীন যখন আমফান কোপ বসায় বাংলার উপর কান্তিবাবু নিজের সাধ্যমত চেষ্টা করেছেন মানুষের পাশে থাকার। পূর্বে তাকে দেখা গিয়েছে বৃষ্টি মাথায় মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে, বাঁধ দেওয়ার কাজে হাত লাগাতে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তিনি জয়লাভ করতে না পারলেও, ইয়াস আছড়ে পড়ার আগেই রায়দিঘীর মানুষের কাছে পৌঁছে গেলেন তিনি।

মাসখানেকও তো হয়নি, ভোটে হেরেছেন, কথা থামিয়ে ‘কান্তি বুড়ো’র জবাব, “মানুষ ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। আমরা মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারিনি। মানুষ ঠিক কাজ করেছে।” সঙ্গে সংযুক্ত করলেন, “মানুষই মানুষকে বাঁচাতে পারে। মানুষের পাশে থাকাই আমার নেশা। আমার এই নেশামুক্তি কোনও দিনই ঘুঁচবে না। এটাই আমার প্রাণশক্তি, এটাই আমার আদর্শ।”

তিনি মঙ্গলবার রাত্রে রায়দিঘি সাধারণ মানুষের কাছে দুটি গাড়িতে করে ত্রিপল খাবার এবং ঔষধ পাঠিয়ে দেন, নিজেও জানবে কে চেপে। বুধবার বাঁধ ভেঙে বহুগ্রাম জলে জলাকার, খবর পেয়ে ছুটে গিয়েছেন সেখানে, বৃষ্টি একটু কমলে ছাতা নিয়ে বেরিয়েছিলেন গ্রাম পরিদর্শনে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি হয়তো বাঁধ সারাইয়ের কাজে হাত লাগাতে পারেননি, কিন্তু তিনি আবারও প্রমাণ করে দিলেন শুধুমাত্র ভোটে জিতে নয়, হেরেও মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়।

Back to top button