বহু লড়াই করে স্নাতকোত্তর করেও মেলেনি চাকরি, তন্ময় এখন ‘এমএ পাশ লটারিওয়ালা’

বংট্রেন্ডি অনলাইন ডেস্ক: বর্তমানে চাকরির অবস্থা মন্দা। বহু শিক্ষিত যুবক যুবতী আজ বেকার। তাই বাধ্য হয়ে তাদের এমন কাজ করতে হচ্ছে যা তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সাথে মেল খায় না। অবশ্য কোনো কাজই ছোট না। সৎ পথে উপার্জন করা যেকোনো মাধ্যমই সম্মানীয়। কিন্তু যখন কেউ একটা লক্ষ্য স্থির করে পড়াশুনা করে আর সেইমতো ফলাফল তারা পায় না সেই কষ্ট বলে বোঝাবার নয়।

আজ গোটা একটা জেনারেশন হীনমন্যতার শিকার। রাস্তাঘাটে পথচলতি এমন অনেক শিক্ষিত যুবক যুবতীকে দেখতে পাবেন যারা হয় চা বিক্রি করছেন, না হলে টিউশন করাচ্ছেন অথবা ট্রেনে বাসে জিনিস বিক্রি করছেন। এগুলো দেখলে সত্যিই মনে প্রশ্ন জাগে আমাদের আগামী দিন কেমন হতে পারে? আজ আমরা আপনাদের এমনই এক যুবকের কথা বলব।

যুবকটির নাম তন্ময় চুনারি। মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা তিনি। 2011 সালে মাধ্যমিক দেন এবং প্রথম বিভাগে পাস করেন। 2018 সালে আমতলা যতীন্দ্র রাজেন্দ্র মহাবিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন এবং সম্প্রতি এমএ পাস করেন। বরাবরই কষ্টের সংসার তাদের। যখন সপ্তম শ্রেণীতে পড়েন তখন তার বাবা মারা যায় ফলে সংসারের হাল তার দাদাকে ধরতে হয়। কিন্তু সেই সময়ও তিনি কাজ করতেন।

দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোগাড় করতে সাইকেলের দোকানে কাজ নিয়েছিলেন কিশোর তন্ময়। যে কারণে এক প্রকার স্কুলছুট হতে হয় তাকে। কিন্তু পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসার কারণে আবার স্কুল যাওয়া শুরু করেন তিনি। ভাইয়ের পড়াশোনা ও সংসার চালানোর কথা ভেবে মুর্শিদাবাদের আমতলা বাজার এলাকায় তন্ময় চুনারির দাদা জয়দেব চুনারি লটারি বিক্রি শুরু করেন। খুব আহামরি বিক্রি না হলেও তাদের দুবেলা-দুমুঠো খাবার জুটে যেত।

পাশাপাশি তন্ময় কিছু কাজ করা শুরু করেন। সাথে পড়াশোনা ও চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎই তার দাদা মারা যান। এর পরেই পুরো পরিবারের দায়িত্ব তার উপর চলে আসে। মা, বৌদি ভাইপোর দায়িত্ব এখন তার ওপর। চাকরির বহু চেষ্টা করেও যখন সফল হননি তাই বাধ্য হয়ে তার দাদার পথই অবলম্বন করতে হয় তাকে। তার দাদা যেখানেই লটারি বিক্রি করতেন সেখানেই তিনি নতুন টেবিল পেতে লটারি বিক্রি শুরু করেন।

দোকানের নাম দেন “এমএ পাস লটারি বিক্রেতা তন্ময়”। লটারি বিক্রি কেন বেছে নিলেন এই কথা জিজ্ঞাসা করায় তিনি জানান ব্যবসা করার মতো পুঁজি বা অন্য কোনো দোকান করার মতো টাকা তার কাছে নেই। কিন্তু লটারি বিক্রি সরকার দ্বারা স্বীকৃত একটি কাজ যেখান থেকে তাঁর দিনে দুই তিনশ টাকা রোজগার হয়ে যায়। যদিও এতে তাদের পরিবার কোন মতো চলছে তাও না খেয়ে থাকার থেকে ভালো। তন্ময় এর মত বহু শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীকে আমরা এই অবস্থায় হয়তো আগামী দিনেও দেখতে পাব। দেখা যাক, ভবিষ্যতে এর কোনো সুরাহা মিলে নাকি!

Back to top button