খবরের নামে প্রহসন, হাঁটু জলে সাঁতার কেটে টিআরপি তুললো সংবাদমাধ্যম

নিজস্ব প্রতিবেদন: ভয়ঙ্কর শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় “ইয়াস” এর প্রভাব কলকাতা শহরে সেভাবে না পড়লেও সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাগুলি কার্যত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে প্রধানত পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষত দীঘার সমুদ্র সৈকতের প্রবল জলোচ্ছাস সাংবাদিকদের ক্যামেরায় বিশেষ ভাবে ধরা পড়েছে। দীঘার সমুদ্র তটের কোথাও কোথাও আবার নারকেল গাছের সমান উচ্চতা বিশিষ্ট জলোচ্ছ্বাসও লক্ষ্য করা গিয়েছে।

সকাল থেকেই ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধির উপর নজরদারি চালাচ্ছিল রাজ্য প্রশাসন এবং আবহাওয়া দপ্তরের বিশেষজ্ঞদের। ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি নিয়ে ভীষণ ভাবে আতঙ্কিত ছিলেন গোটা রাজ্যবাসী। তাই তো তারা এক পলকের জন্যেও সংবাদমাধ্যমগুলি থেকে নজর সরাননি। একদিকে ছিল ঘূর্ণিঝড়ের আতঙ্ক, তার উপর আবার ভরা কোটাল, পূর্ণিমা, চন্দ্রগ্রহণের জেরে নদীর জল স্তর বৃদ্ধির জন্য বন্যার আশঙ্কা! উভয় সংকটের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ।

সেই অবস্থায় সাধারণ মানুষ যে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ ও গতিবিধি, ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে জানার জন্য সংবাদমাধ্যমগুলির ভরসায় থাকেন, এটা স্বাভাবিক। তবে সাধারণ মানুষের সেই উদ্বেগকে হাতিয়ার করে যদি কোন সংবাদমাধ্যম শুধু ব্যবসার খাতিরেই ভুল তথ্য সামনে নিয়ে আসেন, “সাজানো নাটক” রূপে তুলে ধরেন দর্শকের সামনে তাহলে মানুষ কাকে বিশ্বাস করবেন?

সংবাদমাধ্যমগুলির আসল চিত্র সম্প্রতি ধরা পড়লো সোশ্যাল সাইটে। ঘূর্ণিঝড়ের আতঙ্ককে হাতিয়ার করে সংবাদমাধ্যমগুলি শুধু টিআরপি বাড়ানোর জন্য যে কতটা নিচে নামতে পারে, তার জ্বলন্ত নিদর্শন মিললো সোশ্যাল সাইটে।

কোথাও দেখা যাচ্ছে যে, হাঁটুসমান জলে সাঁতার কাটছেন একজন মহিলা সাথে একজন পুরুষ। তারা দুজনেই নাকি সিভিল ডিফেন্সের কর্মচারী! হাঁটু সমান জলে সকলেই পায়ে হেঁটে রাস্তা পারাপার করছেন তখন তারা সেই জলেই সাঁতার কাটার “অভিনয়” করে নাকি বিপদগ্রস্ত দের উদ্ধার করতে যাচ্ছেন! উল্লেখ্য, যে সাংবাদিক ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করছিলেন তিনিও কিন্তু ওই স্থানে দাঁড়িয়ে রিপোর্টিং করছিলেন। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, সাংবাদিক যেখানে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সাংবাদিকতা করতে পারছেন, সেখানে ওই দুইজন সাঁতার কাটছে কেন?

সাধারণ ভাবেই সংবাদমাধ্যমের এমন সাংবাদিকতা দেখে সংবাদ সংস্থাগুলির উপর থেকে ভরসা হারিয়ে ফেলছেন নেটিজেনরা।নেটিজেনদের ধিক্কারে কমেন্ট বক্স ভোরে গেছে। তাদের মতে, “এতে সংবাদ মাধ্যমের প্রতি মানুষ আস্থা হারাবে, কিভাবে ভাবলো এমন অভিনয় করলে মানুষ বুঝতে পারবে না! ভিডিও ফুটেজ দেখে তো পরিষ্কার নাটকটা বোঝা যাচ্ছে।”

নেটিজেনদের একাংশ আবার “সিভিল ডিফেন্সের কর্মচারী” হিসেবে পরিচয় প্রদানকারী ওই দুই পুরুষ এবং মহিলার বিরুদ্ধেও ধিক্কার জানাচ্ছেন। নেটিজেনদের একাংশ যেমন ঘটনাটিকে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের “নির্লজ্জ সাংবাদিকতা” বলে ব্যাখ্যা করছেন, তেমন অনেকেই আবার এমন জঘন্য কাজে মদত প্রদানকারী ওই দুই “অভিনেতা এবং অভিনেত্রী”র বিরুদ্ধেও ব্যাবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন।

অনেকে মন্তব্য করেছেন, “সিভিল ডিফেন্সের কর্মচারী সত্যি সত্যি হলে সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত”! অনেকের মন্তব্য, “মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। হামাগুড়ি দিয়ে জলে হাঁটাকে সাঁতার বলে না।” ওই দুই ব্যক্তি যদি সত্যিই সিভিল ডিফেন্সের কর্মচারী হয়ে থাকেন তাহলে তাদের দু’জনকেই শোকজ করে সাসপেন্ড করা উচিত বলেও দাবি করছেন অনেকেই।

দর্শকের আকর্ষণ টানার এমন প্রচেষ্টা কিন্তু অতি সহজেই নস্যাৎ করে দিয়েছেন নেটিজেনরা। সাধারণ মানুষের চোখকে ফাঁকি দিয়ে টিআরপি আদায় করার এই প্রক্রিয়াগুলিকে কেন্দ্র করে নেটদুনিয়ায় ট্রোল-মিমের বন্যা বচ্ছে। অদ্ভুত সাংবাদিকতা দেখে নেটিজেনরা হাসবেন? নাকি কাঁদবেন? বুজতেই পাচ্ছেন না। এমন একটি সেনসিটিভ ইস্যু নিয়ে এইভাবে মানুষকে বোকা বানানো ভারী অন্যায়। তা নিয়ে সকলেই ধিক্কার জানাচ্ছেন।।

Back to top button