আছড়ে পড়ছে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় তাউকতাই, বাংলায় কি এর প্রভাব পরবে কি বলছে আবহাওয়া দপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদনএবছর শীত যেমন দীর্ঘস্থায়ী ছিল, সেরকম গরমও তীব্র পড়বে বলেই জানিয়েছিল আবহাওয়া দপ্তর। ইতিমধ্যেই রাজ্যের জেলায় জেলায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে আজ সকাল থেকেই রোদের দেখা মিলছে। রাজ্যে আবার বৃদ্ধি পেল তাপমাত্রা। জানা যাচ্ছে যে আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় এর প্রভাবে রাজ্যে প্রচুর শুষ্ক বাতাস প্রবেশ করছে। আর তার ফলেই বৃদ্ধি পাচ্ছে তাপমাত্রা।ভয়াবহ রূপ নিয়ে গুজরাত উপকূলের দিকে আছড়ে পরতে চলেছে আরব সাগরে তৈরি হওয়া শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় তাউকতাই। ইতিমধ্যেই মৌসম ভবন জারি করেছে কমলা সতর্কতা।

স্কাইমেটের পূর্বাভাস অনুসারে, আরব সাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ধীরে ধীরে শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিনত হয়ে আগামী ১৮ মে মঙ্গলবার বিকেলে আছড়ে পরতে চলেছে গুজরাতের উপকূলবর্তী এলাকায়। ১৫০ থেকে ১৬০ কিমি প্রতি ঘন্টার বেগে ঝড় বইতে পারে বলে আশঙ্কা আবহাওয়াবিদদের। ইতিমধ্যে গুজরাতে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গুজরাত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি রাজ্যজুড়ে সতর্কতা জারি করেছিলেন অনেক আগেই, সঙ্গে সবরকম ভাবে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন উপকূলবর্তী জেলাগুলির প্রশাসনকে। ১৬ থেকে ১৯ মে এর মধ্যে ভয়ঙ্কর রূপ নিতে চলেছে এই ঘূর্ণিঝড়। উপকূলভাগে আছড়ে পড়ার সময় ঘূর্ণিঝড়ের গতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ১৫০-১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা। ১৮ মে সন্ধ্যা নাগাদ পোরবন্দর ও নালিয়া তট এলাকায় আছড়ে পরার সম্ভাবনা রয়েছে৷ ঝড়ের গতিবেগ ১৫০-১৬০ কিলোমিটার ও কখনো ১৭৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টাও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইএমডি।

ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে ঘূর্ণিঝড়। আর তার জেরে ইতিমধ্যে গোয়া ও কর্ণাটকের বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি শুরু হয়েছে৷ চলছে ঝড়ের ভয়ঙ্কর তাণ্ডবলীলা৷ কর্নাটক বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী সূত্রে খবর অনুসারে, তছনছ হয়ে গাছে প্রায় ৭৩ টি গ্রাম। তার সাথে ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ জন। পুরো পরিস্থিতির ওপর কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইদুরাপ্পা নজর রাখছেন বলে জানা যাচ্ছে। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী আজ থেকেই মুম্বই সহ গোটা মহারাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ পরতে চলেছে৷ অতি ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে মুম্বই-এ৷ পশ্চিম মহারাষ্ট্রের পার্বত্য অঞ্চলে বজায় থাকবে ঝড়ের দাপট৷ আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিতে চলেছে ঘূর্ণিঝড়। সৌরাষ্ট্রের কয়েকটি জেলায়, কচ্ছ, দিউ, জুনাগড়, গির সোমনাথেও ভারি বৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কেরল, তামিলনাড়ু, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, গোয়া, লাক্ষাদ্বীপ ও দক্ষিণ কঙ্কন এ ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। স্কাইমেটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, লাক্ষাদ্বীপ, কেরল, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, কোঙ্কন, গোয়া এর বেশ কিছু অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ ইতিমধ্যেই সতর্কতা নিয়ে অ্যালার্ট রয়েছেন এনডিআএফ-এর ৫৩টি টিম। অন্যদিকে ১৮ মে থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে সৌরাষ্ট্র, কচ্ছে। অনেক আগেই মৎসজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যাঁরা সমুদ্রে গিয়েছেন তাঁদের ফিরে আসারও নির্দেশ জানানো হয়েছিল প্রশাসন থেকে।।

Back to top button