নন্দীগ্রাম সফর থেকেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যপাল

বং ট্রেন্ডি ডিজিটাল ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয়বারের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হলেন। তারপর থেকেই বাংলায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক হিংসা, জানিয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর প্রতিনিয়ত নিন্দা করে যাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের দিন হয় তাকে সচেতন করে দেন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নিয়ে।

এরপরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অনেকবার নিন্দা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের এমন অবস্থার। রাজ্যপাল এমন কি এমনটা দাবি করেছিলেন যে তাকে আক্রান্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এরপর তিনি হেলিকপ্টারে করে শীতলকুচি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং পর্যবেক্ষণের পর টুইট করে লেখেন,”আমার রীতিমতো চোখে জল চলে আসছিল ওদের কাহিনী শুনে। ভোটাধিকার প্রয়োগের এমন চরম মূল্য দিতে হবে তা সত্যিই ধারণার বাইরে।” শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন নন্দীগ্রামে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। যা দেখে রাজ্যপাল নন্দীগ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে পরিস্থিতি খতিয়ে ক্ষুব্ধ হন রাজ্যপাল।

সেখান থেকে ফিরে রাজ্যপাল কড়া ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী কে বলেন,” মুখ্যমন্ত্রী ঘুম থেকে উঠুন! রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত, ভয়ে রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। আপনি কি করছেন নিজেকে প্রশ্ন করুন! শীতলকুচি তে তো কোন কিছু করতে বাকি রাখেননি। পুলিশ সুপারকে সাসপেন্ড করেছেন। আপনি কি দেখেছেন লক্ষ লক্ষ মানুষের যন্ত্রণা? সেই সময় মেয়েদের দেখেছেন যাদের ধর্ষণ করা হয়েছে?শুধু রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতি ও এই বিষয়ে সরব হলেন। তিনি বলেন এভাবে চলতে থাকলে তার হাতে থাকা সংবিধানে আইন প্রয়োগ করতে তিনি বাধ্য হবেন। তিনি জানান,”ভারতের সংবিধানে একটা ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে। সেই ক্ষমতা ব্যবহার করতে বাধ্য করবেন না। ঘুম থেকে উঠুন। রাষ্ট্র দ্বারা আয়োজিত সমর্থিত এই নৃশংস হিংসাকে রুখুন।

এর আগে হয়তো কোনদিন কেন্দ্রের তরফ থেকে রাজ্যকে এমন হুঁশিয়ারি দেয়া হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপুল ভোটে জয়লাভ করে তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হলেও ভোট-পরবর্তী দ্বন্দ্বে একজন নাগরিকের ও হত্যা মেনে নেওয়া যায় না। এখন রাজ্য-রাজ্যপাল দ্বন্দ্ব কত দূর গড়ায় সেটাই নজর থাকবে সবার।

Back to top button