বাঙালি আসলে সাহিত্য বোঝে না, রবীন্দ্রনাথ নামক মানুষ বঙ্গজীবনে সাহিত্য এনেছেন: ব্রাত্য

সম্প্রতি অভিনীত হওয়া ঝরাপালক সিনেমায় ব্রাত্য বসু হয়েছেন জীবনানন্দ দাশ। এই ছবি নিয়ে এবং জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে তাকে কিছু প্রশ্ন করা হলো। সেই প্রশ্নগুলোর অকপট উত্তর দিয়েছেন ব্রাত্য বসু।তাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় যে তিনি জানতেন কিনা তাকে জীবনানন্দের মতো দেখতে তখন ব্রাত্য বসু প্রশ্নটা শুনে অবাক হয়ে বলেন যে একেবারেই জানতেন না। তিনি বহুবার জীবনানন্দ পড়েছেন কিন্তু তাকে যে জীবনানন্দের চরিত্রে অভিনয় করতে হবে সেটি তিনি ভাবেন নি ।এটি সত্যি খুব শক্ত কাজ।

কেন তিনি এই কাজকে শক্ত বলেছেন সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্রাত্য বসু বলেছেন জীবনানন্দের ব্যক্তি জীবনের বেশির ভাগটাই রয়েছে অধরা ।শুধু বাইরের তথ্য টুকুই পাওয়া যায় ।কিন্তু তার মনের কোনো তথ্য পাওয়া যায় না ।তাই মনের তথ্য পাওয়ার জন্য তিনি জীবনানন্দের জীবনী পাঠ করেছিলেন এবং এ বিষয়ে তিনি শাহাদুজ্জামানের একজন কমলালেবু বইটি পড়েছেন ।এই বইটি থেকে তিনি জীবনানন্দর সঙ্গে তার বোনের সম্পর্ক , তার স্ত্রী এর সঙ্গে তার সম্পর্ক ইত্যাদি সম্পর্কে অনেক তথ্য তিনি জানতে পেরেছেন যা তার অভিনয়ের জন্য অনেকটাই কাজে লেগেছে।

তাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যে ঝরাপালক ছবিতে কি তার সামনে কোনো নতুন জীবনানন্দ এল তখন ব্রাত্য বসু সে বিষয়ে অস্বীকার করেননি। এই ছবির মাধ্যমে তিনি জীবনানন্দর স্ত্রী লাবণ্যকে আরো বেশি করে জানতে পেরেছেন। তিনি জীবনানন্দ এর স্ত্রী লাবণ্যর কথা প্রসঙ্গে বলেছেন যে পৃথিবী থেকে প্রত্যাখ্যাত একজন অসফল মানুষকে লাবণ্য আগলে রেখেছিলেন। এমন একজন মানুষের সঙ্গে থাকা , তাকে আগলে রাখা কম কথা নয় । তিনি বলেছেন যে সিনেমাটি করে তিনি বুঝেছেন জীবনানন্দ আত্মহত্যা’ই করেছিলেন ।তাঁর মৃত্যু কোন দুর্ঘটনা নয়।

আজকে জীবনানন্দ সম্পর্কে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন যে বর্তমানে আরো খারাপ অবস্থা। আজকের জীবনানন্দের পক্ষে মানিয়ে নেওয়া অসম্ভব ব্যাপার । ব্রাত্য বসু কে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছে বাঙালির কাছে কবি মানে কি মুখচোরা নরম কিছু বা কবিতা নিয়ে চলা জীবন তখন ব্রাত্য বসু বলেছেন যে বাঙালির কাছে তিনি কবি যিনি জীবদ্দশায় তার কাব্য প্রকাশ করেন না ।পরে তার পান্ডুলিপি প্রকাশ পায় । তিনি বলেছেন বাঙালি আসলে কোন সাহিত্য বোঝে না। শুধু মাঝে রবীন্দ্রনাথ চলে এসেছিলেন । তিনি সাহিত্যের বাতাবরণ তৈরি করেছিলেন । যখন তাকে প্রশ্ন করা হয় রবীন্দ্রনাথ প্রাচীন কিনা তখন ব্রাত্য বসু বলেছেন যে একেবারেই নয় ।রবীন্দ্রনাথ এখনো জীবন্ত ।তবে রবীন্দ্রনাথই এই বাঙালি জাতির মধ্যে সংখ্যালঘু তৈরি করেছেন। রবীন্দ্রনাথ নিজেও সংখ্যালঘু হয়েছেন।

যখন ব্রাত্য বসু কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে ঝরাপালক কাদের ছবি তখন তিনি বলেছেন যে এই ছবি সংখ্যালঘুদের দেখার ছবি যারা সমাজের মুহূর্ত চলতে পারেন না ছবি দেখবে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যার সঙ্গে কাজ করে তার কেমন লেগেছে তিনি বলেছেন যে এটি যাওয়ার সময় তার প্রথম কাজ কাজ করে তার খুবই ভালো লেগেছে

Back to top button